পেসবুকে আমরা......

শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

Artificial Love-কৃত্রিম ভালোবাস


প্রিয় উপন্যাসের প্রিয় পাতাগুলোও একটাসময় অপ্রিয় হয়ে যায়। প্রিয় মানুষগুলো দূরে সরে যখন যায় তখন তারা ক্ষমতা রাখে একটা মানুষের সকল প্রিয় বিষয়গুলোকে অপ্রিয় বিষাদময় করে দিতে।

একটা সময় প্রিয় গানগুলো শুনতেও স্বাদহীন লাগে। প্রিয় চাঁদটাকে দেখতে গেলেও মনে হয় সেটাকে আজ ভালো দেখাচ্ছেনা। তখন বোধয় সূর্যের প্রখর আলো যে মানুষটা ভয় পেতো, যার কাছে সেই রোদ আর আলো অপ্রিয় ছিলো সেটাও হয়ত প্রিয় হয়ে উঠে।

সে মেতে থাকে রোদ নিয়ে। বৃষ্টিতে যার ভিজতে ভালো লাগতো সে একটা সময় হয়ত বর্ষণ দেখলেই ঘুমিয়ে যায়। কারণ একটা নির্দিষ্ট সময় পরে প্রিয় মানুষটা তার অপ্রিয়গুলোকে প্রিয় করে দিয়েছে। আর প্রিয় জিনিসগুলো করে দিয়েছে বিষাদময়।

আমরা সবাই অসাধারণ ক্ষমতা নিয়ে জন্মে থাকি। এতোটা ক্ষমতা নিয়েই আমাদের জন্ম হয় যে অন্য কোন মানুষের ভালো থাকা, খারাপ থাকা, প্রিয়, অপ্রিয় ইচ্ছেগুলোকে আমরা নির্ধারণ করতে পারি। আমরা তাদের সব কিছু বদলে দিতে পারি।

প্রিয় মানুষটাও কিন্তু কম ক্ষমতাবান হয়না। তারাও আমাদের ভালো থাকা,খারাপ থাকা নির্ধারণ করতে পারেন তিল তিল করে গড়ে উঠানো ভালোবাসাটুকুও যখন হেরে যায় তখন আমাদের প্রিয় জিনিসগুলোও বিষাদময় লাগে নিজেদের কাছে।

অপ্রিয় আর খারাপ জিনিসগুলো করতে তখন আমাদের প্রচন্ড ভালো লাগে। কী অদ্ভুত! অন্য কেউ আমাদের ভালো থাকা খারাপ থাকা নির্ধারণ করে! অথচ আমরা সেটা বুঝতে পেরেও তাদেরকে প্রচন্ড ভালোবাসি।

আর নিজেদের ভালো থাকা ভালোবেসেই তুলে দেই তাদের হাতে! সত্যিই কত ক্ষমতাবান হয় তারা!

__দুঃখ নিবাসী


আমার স্বপ্ন।My Dream

my dream আমার স্বপ্ন

তুমি আমি হতে পারতাম পৃথিবীর সুখি সেরা জুটি।
এটা তুমি নিজেও জানতে তবু মানতে করলে ত্রুটি।
বড্ড করেছি দেরি বলে চলে গেলে বহুদুর ছুটি।
আমায় ছেড়ে ধরলে অন্য হাত করলে খুনসুটি।
অবহেলা আর অনাদরের কষ্টে খাই যে লুটোপুটি।
দেখবে আমিও একদিন করবো জয় সুখ নিবো সব লুটি।

মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

একুশে ফেব্রুয়ারি কিভাবে পেয়েছি আমরা?হয়ত অনেকে জানিনা একটি সত্য ঘটনা!


বাঙালি বড় বিস্মৃতিপরায়ণ জাতি। নিজেদের ইতিহাস ভুলে বসে থাকে। কখনো বিকৃতও করে অহর্নিশি। বাঙালি বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে, স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে, শেখ মুজিবের অবদান নিয়ে… এমন কোন বিষয় নেই যা নিয়ে বাঙালি বিতর্ক করে না। সেই বিস্মৃতিপরায়ণ জাতি হিসেবে আমরা একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করি, উল্লাসে একে অভিহিত করি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে, কিন্তু আমরা সত্যই কি জানি একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হবার ইতিহাসটুকু?
ইন্টারনেটে সার্চ করুন। এ নিয়ে কোন তথ্যই আপনি পাবেন না। এমনকি আন্তজার্তিক ভাবে পালিত ইউনেস্কোর পোষ্টার লিফলেট কিংবা নিউজ লেটারে কোথাও বাংলাদেশের ১৯৫২ সনের এই আত্মত্যাগের সংবাদটি আপনার চোখে পড়বে না। আপনি জানবেন না কিভাবে ২১শে ফেব্রুয়ারির এই দিনটি কোন যাদুবলে হঠাৎ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হয়ে গেল ২০০০ সাল থেকে। জানার কোন উপায় নেই – কারা ছিলো এর পেছনে। ব্যতিক্রম বোধ হয় শুধু আমার দুঃখ নিবাসী'র। হাসান মাহমুদের (ফতেমোল্লার) The Makers of History: International Mother Language Day নামের এই লেখায় ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে কি অক্লান্ত পরিশ্রম করে দু’জন পরবাসী বাঙালি একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পরিণত করেছিলেন। ছোট্ট একটা লেখা ইংরেজীতে। কিন্তু অসামান্য দলিল। দলিলটি হারিয়ে যাবার আগেই আমার মনে হল একুশে ফেব্রুয়ারির এই দিনে সেই গৌরবময় উপাখ্যানটুকু বাংলায় বয়ান করা যাক।
বিগত নব্বই শতকের শেষ দিক। সবকিছুর পুরোধা ছিলেন রফিক (রফিকুল ইসলাম) নামের এক ক্যানাডা নিবাসী বাঙালি। চেহারা ছবিতে অসাধারাণ কিছু মনে হবে না দেখলে। চিরায়ত বাঙালি চেহারা, আলাদা কোন বিশেষত্ব চোখে মুখে নেই। কিন্তু যে কেউ একটু কথা বললেই বুঝবেন যে সাধারণ এই লোকটির মধ্যে লুকিয়ে আছে এক অমিত শক্তির স্ফুরণ। একসময় মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, দেশ-মাতৃকাকে মুক্ত করেছেন না-পাক বাহিনীর হাত থেকে। তো এই লোকটি একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পরিণত করার সম্মুখ যোদ্ধা হবেন না তো কে হবেন?
১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে এক রফিক পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়ে একুশে ফেব্রুয়া্রিকে অমর করেছিলেন। তার ৪৬ বছর পরে আরেকজন রফিক সুদূর কানাডায় বসে আরেক দুঃসাহসী কাজ করে ফেললেন ।
১) ১৯৯৮ সালের ৯ই জানুয়ারী রফিক জাতিসংঘের তৎকালীন জেনারেল সেক্রেটারী কফি আনানকে একটি চিঠি লেখেন। সেই চিঠিতে রফিক ১৯৫২ সালে ভাষা শহীদদের অবদানের কথা উল্লেখ করে কফি আনানকে প্রস্তাব করেন ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘মাতৃভাষা দিবস’হিসেবে যেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।
২) সে সময় সেক্রেটারী জেনারেলের প্রধান তথ্য কর্মচারী হিসেবে কর্মরত হাসান ফেরদৌসের (যিনি একজন সাহিত্যিক হিসেবেও পরিচিত) নজরে এ চিঠিটি আসে। তিনি ১৯৯৮ সালের ২০ শে জানুয়ারী রফিককে অনুরোধ করেন তিনি যেন জাতিসংঘের অন্য কোন সদস্য রাষ্ট্রের কারো কাছ থেকে একই ধরনের প্রস্তাব আনার ব্যবস্থা করেন।
৩) সেই উপদেশ মোতাবেক রফিক তার সহযোদ্ধা আব্দুস সালামকে সাথে নিয়ে “এ গ্রুপ অব মাদার ল্যাংগুয়েজ অফ দ্যা ওর্য়াল্ড” নামে একটি সংগঠন দাঁড় করান। এতে একজন ইংরেজীভাষী, একজন জার্মানভাষী, একজন ক্যান্টোনিজভাষী, একজন কাচ্চিভাষী সদস্য ছিলেন। তারা আবারো কফি আনানকে “এ গ্রুপ অব মাদার ল্যাংগুয়েজ অফ দ্যা ওর্য়াল্ড”-এর পক্ষ থেকে একটি চিঠি লেখেন, এবং চিঠির একটি কপি ইউএনওর ক্যানাডিয়ান এম্বাসেডর ডেভিড ফাওলারের কাছেও প্রেরণ করেন।
৪) এর মধ্যে একটি বছর পার হয়ে গেলো। ১৯৯৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে হাসান ফেরদৌস সাহেব রফিক এবং সালামকে উপদেশ দেন ইউনেস্কোর ভাষা বিভাগের জোশেফ পডের সাথে দেখা করতে। তারা জোশেফের সাথে দেখা করার পর জোশেফ তাদের উপদেশ দেন ইউনেস্কোর আনা মারিয়ার সাথে দেখা করতে। এই আনা মারিয়া নামের এই ভদ্রমহিলাকে আমরা কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করবো, কারণ এই ভদ্রমহিলাই রফিক-সালামের কাজকে অনেক সহজ করে দেন। আনা মারিয়া রফিক-সালামের কথা মন দিয়ে শোনেন এবং তারপর পরামর্শ দেন তাদের প্রস্তাব ৫ টি সদস্য দেশ – ক্যানাডা, ভারত, হাঙ্গেরি, ফিনল্যান্ড এবং বাংলাদেশ দ্বারা আনীত হতে হবে।
৫) সে সময় বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী এম এ সাদেক এবং শিক্ষা সচিব কাজী রকিবুদ্দিন, অধ্যাপক কফিলউদ্দিন আহমেদ, মশিউর রহমান (প্রধানমন্ত্রীর সেক্রেটারিয়েটের তৎকালীন ডিরেক্টর), সৈয়দ মোজাম্মেল আলি (ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত), ইকতিয়ার চৌধুরী (কাউন্সিলর), তোজাম্মেল হক (ইউনেস্কোর সেক্রেটারি জেনেরালের শীর্ষ উপদেষ্টা) সহ অন্য অনেকেই জড়িত হয়ে পড়েন।তারা দিন রাত ধরে পরিশ্রম করেন আরো ২৯ টি দেশকে প্রস্তাবটির স্বপক্ষে সমর্থন আদায়ে। অন্যান্য বাংলাদেশী এবং প্রবাসীদের কাছে ব্যাপারটা অগোচরেই ছিল- পর্দার অন্তরালে কি দুঃসাহসিক নাটক চলছিলো সে সময়। এই উচ্চাভিলাসী প্রজেক্টের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা এবং ক্যানাডার ভ্যাঙ্কুভার শহরের জনা কয়েক লোক কেবল ব্যাপারটা জানেন, এবং বুকে আশা নিয়ে তারা সেসময় স্বপ্নের জাল বুনে চলেছেন প্রতিদিন।
৬) ১৯৯৯ সালের ৯ ই সেপ্টেম্বর। ইউনেস্কোর প্রস্তাব উত্থাপনের শেষ দিন। এখনো প্রস্তাব এসে পৌঁছায়নি। ওদিকে রফিক সালামেরা ব্যাপারটি নিয়ে বিনিদ্র রজনী অতিক্রম করে চলেছেন। টেলিফোনের সামনে বসে আছেন, কখনো চোখ রাখছেন ইমেইলে। আসলে প্রস্তাবটির পেছনে প্রধাণমন্ত্রীর একটি সই বাকি ছিলো। আর প্রধানমন্ত্রী তখন পার্লামেন্টে। পার্লামেন্টের সময়সূচীর পরে সই করতে করতে প্রস্তাব উত্থাপনের সময়সীমা পার হয়ে যাবে। সেটা আর সময় মত ইউনেস্কো পৌঁছুবে না। সব পরিশ্রম জলেই যাবে বোধ হয়।
৭) প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে অনুরোধ করা হলো তিনি যেন প্রস্তাবটি সই করে ফ্যাক্স করে দেন ইউনেস্কোর দপ্তরে। অফিসের সময়সীমা শেষ হবার মাত্র একঘণ্টা আগে ফ্যাক্সবার্তা ইউনেস্কোর অফিসে এসে পৌঁছুলো।
৮) ১৬ই নভেম্বর কোন এক অজ্ঞাত কারণে (সময়াভাবে ?) বহুল প্রতাশিত প্রস্তাবটি ইউনেস্কোর সভায় উত্থাপন করা হলো না। রফিক সালামেরা আরো একটি হতাশ দিন পার করলেন।
৯) পর দিন – ১৭ই নভেম্বর, ১৯৯৯। এক ঐতিহাসিক দিন। প্রস্তাব উত্থাপন করা হলো সভার প্রথমেই। ১৮৮ টি দেশ এতে সাথে সাথেই সমর্থন জানালো। কোন দেশই এর বিরোধিতা করলোনা, এমনকি খোদ পাকিস্তানও নয়।  সর্বসম্মতিক্রমে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে গৃহীত হলো ইউনেস্কোর সভায়।
এভাবেই একুশে ফেব্রুয়ারি একটি আন্তর্জাতিক দিনে পরিণত হলো। কিন্তু এতো কিছুর পরেও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মূল উদ্যোক্তা রফিক এবং সালাম সবার কাছে অচেনাই রয়ে গেলেন। তাদের ত্যাগ তিতিক্ষা আর পরিশ্রম অজ্ঞাতই থেকে গেল। কেউ জানলো না কি নিঃসীম উৎকন্ঠা আর আশায় পার করেছিলেন তারা ১৯৯৯ সালের নভেম্বর মাসের শেষ ক’টি বিনিদ্র রজনী। কেউ জানলো না, কিভাবে সমর্থন যুগে চলেছিলেন তাদের স্ত্রী, পরিবার, এবং কাছের বন্ধু বান্ধবেরা। কত অজ্ঞাতকূলশীলেরাই বাংলা একাডেমি পদক, একুশে পদক পেয়ে যান এই অভাগার দেশে আর রফিক সালামেরা উপেক্ষিতই থেকে যান।
আমি এই লেখার মাধ্যমে মুক্তমনার পক্ষ থেকে রফিক সালাম নামে কানাডা নিবাসী দুই ভাষা সৈনিকের একুশে পদক প্রস্তাব করছি।

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। Today is happy valentine day.


এইদিনটির জন্য ভালোবাসা নাকি
ভালোবাসার জন্য এইদিনটি খুঁজি উত্তর সেই ,
এইদিনটির জন্য ভালোবাসা হলে
বাঁকি দিন গুলিতে কি ভালোবাসার প্রয়োজন নেই ?

অনেকের উত্তর পেয়েছি ঢের ঢেরাধিক
কেউ বলেছে এইদিনটিতে ভালবাসবো বিশেষভাবে ,
যদি তাই হয় অন্যদিনে ঠুনকা ভালবাসলে
বলতে পারেন সেই ভালোবাসা কতটুক টিকে রবে ?

উত্তর যে পাইনি ঠিক তাহা নয়
যাহা হবার হবে , অতো অতো ভাবেন কেন কবি সাব ?
পর্দার আড়ালে থেকে থেকে নারীরা ঘামে চুপসায়
তাই এইদিনটার উছিলায় ছিন্ন করা হয়েছে হিজাব ।

নাউজুবিল্লাহ ...
পৃথিবীর সবাই পিছু লেগেছে ইসলামের
উলঙ্গ করে চিবিয়ে খায় ...
কেউ খায় ছিল্লা ।

যদি ভালোবাসার জন্য এইদিনটি হয়
বাঁকি দিন গুলিতে কেন নয় ?
সারা বছরের ভালোবাসা জমে জমে কি
একদিনেই হয়ে যাবে পরিণয় ?

জবাব মিলেছে তার ... ধুর পাগল কবি
এইদিনটি উপলক্ষ মাত্র আদতে সব দিনই সমান ,
এইদিনটিকে নির্ধারণ করে সবখানে সবাই
দিয়ে যায় হৃদয় নিংড়ায়ে ভালোবাসার মান ।

মানদণ্ডে বিচার করে কি ভালোবাসা হয় ?
হুজুগের পৃথিবী হুজুগি মানুষ গোটা জগৎময় ।
সবার তালে তাল মিলিয়ে সবাইকে দিয়ে গেলাম প্রেম ,
আদতে প্রকৃত ভালোবাসা এখনো হয়নিকো কায়েম ।
জয় হোক ভালোবাসার , ভালোবাসা জিন্দাবাদ ,
রাখেনা যেন স্বার্থের ধরায় ধনী গরীবের তফাৎ । 

সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

আজ আমার জন্মদিন। To day is my birthday.


আরো একটি বছর বেঁচে থাকলাম পৃথিবীতে। এই সুজলা সুফলা সুন্দর পৃথিবী আমাকে আরো একটি বছর উপভোগ করার সুযোগ দিল। আমি তাকে কি দিলাম সে কথা নিতান্তই অবান্তর। শৈবাল আবার শিশিরকে কি দিবে? অনেক অনেক সুন্দর সময় পার করেছি। জন্মদিন মনে হলেই আজকাল মনে হয় সায়াহ্নের দিকে আরো এক কদম এগোনো হলো আমার। আজ এই গোধূলি বেলায় পিছনে তাকাতে ইচ্ছে করে মাঝে মাঝে। ভাবতে ইচ্ছে করে স্কুলে - কলেজে পড়তে গিয়ে ছোটবেলায় জীবনটাকে যেভাবে কল্পনা করেছি আর আজকে যে জীবন আমি যাপন করে যাচ্ছি তার কোথাও কি কোন মিল আছে? শাহনাজ রহমতুল্লাহ তার কিন্নর কন্ঠে গেয়ে চলেন,
“স্বপ্ন সেতো স্বপ্নই নয়, যদি না কিছু তার সত্যি হয়”
..............তাহলে কি সেগুলো স্বপ্ন ছিল না আদৌ ? জীবনটাকে যতোই আমি মুঠোই ভরতে চেয়েছি, ততোই সেটা মুঠো থেকে পিছলে পিছলে গেছে।

ছোটবেলায় জন্মদিনের সকালে ঘুম থেকে উঠেই কেমন যেনো একটা আলাদা অনুভূতি হতে থাকতো সারাক্ষন। এই দিনটাকে শুধুই আমার মনে হতো। যতো ফুল ফুটেছে সেদিন এই পৃথিবীতে আমার জন্য, যতো শিশু হেসেছে সেও আমার জন্য। ঐ নীল আকাশ আমার ঐ দখিন হাওয়া আমার। মনে হতে থাকতো আজ এই পৃথিবীর পাখিরা অন্য সুরে গাইছে, আজ ঐ সূর্য আমার পানে চাইছে। পৃথিবীতে সাংঘাতিক একটা উলট পালট কিছু হয়ে যাবে। প্রতি বছর ইত্তেফাকে ছাপিয়ে যাওয়া গৎ বাধা রাশিফলটা, যার একটা লাইনও এদিক ওদিক না করে আবার ১৩ ফ্রেব্রোয়ারী  ওরা ছাপাতো মনের আনন্দে আবার পড়তাম। একবার নয় বারবার পড়তাম। আজ আপনার জন্মদিন হলে আপনি কর্কট রাশির জাতক কিংবা জাতিক। জন্মসূত্রে আপনি মেধাবী, উচ্চশিক্ষার যোগ আছে, কল্পনাপ্রবন, আবেগপ্রবন, অত্যন্ত সংবেদনশীল ইত্যাদি ইত্যাদি।কাঁচি দিয়ে যত্ন করে চারকোনা কেটে আবার ডায়রীর পাতার মাঝে অগোছালো কিন্তু সাবধানে রেখে দিতাম। কি সাধারন সেই কথাগুলো ছিল, হয়ত প্রত্যেকদিনই এদিক ওদিক করে অন্যের জন্মদিন উপলক্ষ্যে ছাড়ছে!!

আজকাল জন্মদিন তেমন কোন বিশেষ অনুভূতি আর উচ্ছাস নিয়ে আসে না। বয়সের ঘরে আরো একটি সংখ্যার যোগফল বইতো বেশি কিছু না। তেমন কোন আলাদা চমক নেই, অবাক করে দেয়ার জন্য কেউ এসে কড়া নাড়বে না, অনেকদিন ধরে চেয়ে আসছি তেমন কিছু জন্মদিনের শুভেচ্ছাস্বরূপ উপহার হবে না। যখন যা মনে চায় কিনে নেই, চাওয়ারও কেউ নেই, দেওয়ারও কেউ নেই। নিয়মের বাইরে অবাক হওয়ার মতো খুব একটা কিছুই নেই। সবাই শুভেচ্ছা জানায়, ফেসবুক , মেইল, এসএমএস আর ফোনতো আছেই। তারপর ভালো কোন রেষ্টুরেন্টে খাও আর ঘুমাও, জন্মদিন শেষ আবার সামনের বছরের জন্য তৈরী হও বেবি

এতো লিখছি বটে আলাদা কোন আবেদন নেই কারো হাত ধরে কেক কাটার, কিন্তু সত্যিই কি নেই? তাহলে কেনো এই নোট লিখছি আজ? কেন??

যাই হোক,ভালো থেকো সবাই,সুখে থেকো,অনেক শুভ কামনা রইল সবার জন্যে।
ও হ্যাঁ, 
শুভ জন্মদিন! এম কে আজাদ

শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

ভালো থেকো "ভালোবাসা" তুমি!

প্রিয়তমা,দূর্গেশ নন্দিনী

আমার হৃদয় হৃৎপিণ্ডের চাইতেও অনেক গভীরে, রক্ত আর শিরা উপশিরারও অনেক গহীনে যে অস্পৃশ্য অবিনশ্বর রুহ আছে, সেই রুহবিন্দু থেকে তোমাকে ভালোবাসি। তোমার রুপ অবয়ব বা বয়স নয়, তোমার আত্মাটাকে ভালোবাসি।

কারন ভালোবাসা নয় রূপ যৌবনের লোভ। ভালোবাসা মানে নিজের অপর সত্ত্বাকে তোমার মাঝে খুজে পাওয়া। যাকে ছাড়া আমি অপূর্ণ।

আমার হৃৎপিণ্ডের একটু উপরে, অল্প ডানপাশে, আমি নতুন হৃত্স্পন্দন টের পাই। তোমার জন্য এই হৃত্স্পন্দনের জন্ম। তুমিই আমার সেই হৃদয়ের টুকরো, যা দিয়ে তোমাকে তৈরি করা হয়েছে, আর যাকে খুজে না পাওয়া পর্যন্ত আমি অপূর্ণ।

তোমার কাছে কিছু চাওয়ার সাহস নেই আমার। আমি বরং তোমার কাছে নিজেকে দিয়ে দিলাম। আমার স্থাবর অস্থাবর সম্পদ সম্পত্তি দেহের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সবকিছুর উপর কর্তৃত্ব থাকলো শুধু তোমার। তুমি আমার প্রসারিত বাহুডোরে না আসো, যদি আমাতে তুমি নিজেকে দিতে না চাও, তবু আমার সব কিছু তোমার। আমার সবকিছু চলবে শুধু তোমার কথামতো।

আমি জানিনা মানুষ কেন বলে প্রেমে অনেক কষ্ট। পাওয়া না পাওয়ার বেদনা। তারা হয়তো জানেনা ভালোবাসা কি। তাদের হয়তো সে ধৈর্য ছিলোনা সত্যিকারের ভালোবাসার মানুষটিকে খুঁজে পাবার। নিজের জোর করে তৈরি করা ভালোবাসায় আবদ্ধ তারা। তা না হলে তারা জানতো, সত্যিকারের ভালোবাসায় চাওয়ার কিছু থাকেনা। প্রশ্ন থাকেনা, হৃদস্পন্ধন থেমে যায়না, বুক মোচড় দেয় না। কষ্ট হয়না। তাড়নার জঞ্জাল ভ্রু কুচকে ঝামেলা থেকে মুক্তি চায়না। ভালোবাসা মানে নিজের কাছে হার মানা নয়। নয় স্রেফ পছন্দ হয়েছে একজনকে তাই তাকে বশে আনা।

ভালোবাসা মানে একা থাকা। ভালোবাসা মানে অপেক্ষা করা। একদিন আয়নার মতো কাউকে খুঁজে পাওয়া। যাকে পেলে এমনিতেই মনের সব প্রশ্নের উত্তর মিলে যায়। প্রথম স্বপ্নের কথা মনে পড়ে। এক ঝলক স্বপ্ন। মনের মাঝে বয়ে চলা সব ভার এক পলকে আকাশে উড়ে যায়। নিজের মন সত্ত্বার প্রতিরূপ খুঁজে পেয়ে বিকশিত হয় হাসি। এই তো সে, যাকে পেতে নয়, নিজেকে দিয়ে দিতে এত বছর ধরে একা হাঁটছি।

আমি অপেক্ষা করছি তোমার জন্য। যদি তুমি আমায় ভালোবাসো, আমিও তোমায় সারা আকাশ ভেঙ্গে ভালোবাসা দেবো । আমি তোমায় ভালোবাসবো চোখে চোখ রেখে। ভালোবাসবো তোমায় আঙুলের স্পর্শে। সব দুর্নিবার দূরত্বের কষ্ট আমি উড়িয়ে দিবো বুকে চেপে ধরে। তোমার অস্থিরতা আমি শান্ত করবো। তোমার সব অতৃপ্ততা আমি ভালোবাসার আগুনে পুড়িয়ে দিবো। তোমার অভিমানে জল আমি ঠোঁটে ছুয়ে মুছে দিবো । তোমায় ভালোবাসবো আমি সঙ্গীতের মূর্ছনায়। আমি ভালোবাসবো তোমার সুগন্ধি। তোমার প্রতিটি মুহূর্ত কাটবে প্রথম মুহূর্তের পুনরাবির্ভাবের পুলকে। আমি বুঝে নিবো তোমার সব সুক্ষতা। আমি চিনে নিবো তোমার সব চাতুর্য। আমি বাস্তব করবো তোমার সব কল্পনা। মিটাবো তোমার সব উত্তেজনা। তোমার সব শীতলতা আমি উষ্ণ করে দিবো। তোমার আসক্তিতে আমি সবসময় স্পর্শ দিবো।তুমি খুশীতে হাসবে আমার কৌশলে।তোমায় কষ্ট কখনো খুজে পাবেনা। তুমি যদি অত্যাচারের তীব্রতা আর ঘৃনায় সুখ খুঁজতে চাও, তবে বৃস্টির জল দেখতে দেখতে তোমার নিয়ে আমি খেলবো। খেলতে খেলতে তোমায় অসহায় করবে না পাওয়ার যন্ত্রণা। তোমায় একা বইতে দিবো বিরহ। দ্রোহের যন্ত্রণায় কেমন লাল হয়ে যাও তুমি, আমি চেয়ে চেয়ে দেখবো। ক্রোধে বের হয়ে আসা তোমার কান্না আমি হাসিমুখে উপভোগ করবো। যদি হেরে যাও নিজের কাছে, আত্মসমর্পণ করে ফেলো, তবে ভালোবাসা জড়িয়ে দেবো তোমার পরতে পরতে। তোমার সব চিন্তা-ভাবনা- ইচ্ছা-কাজের আমি স্বীকৃতি দিবো। তোমার গোপন প্রকাশ্য সব রুচিতে আমি পাশে থাকবো। তোমায় ঘেরা প্রকৃতির সব অসমতায়, দুঃসংবাদে, সুসংবাদে ,শোকে, মৃত্যুতে,রোগে ব্যর্থতায়, বিচ্ছিন্নতায় আমি ছায়ার মতো থাকবো, তোমায় সঙ্গ দিবো সর্বদা।

তুমি আমার। কারন তুমি যদি আমার সে না হও, তবে কেন তোমাকে পেয়ে এতো ভালো লাগে। তবে কেন আমাদের হৃত্স্পন্দন একসাথে স্পন্দিত হয়। তুমি যদি আমার সে না হও, তবে কেন তোমার জন্য পুরো পৃথিবীর বিরুদ্ধে একা দাঁড়াতে দ্বিধা নেই আমার। আমি যদি তোমার জন্য না হই, তবে হৃদয় কেন বলে হ্যাঁ, আমি তোমার জন্য। আমার মস্তিস্কে কেন শুধু তুমি। কেন আমার স্বপ্নে শুধু তুমি। অদেখা ভবিষ্যৎ শুধু তুমি। আমার হৃদয় কেন অবিচল, সবসময়, তোমার পক্ষে।

আমি কখনো তোমার হাত ছুয়ে দেখিনি। কখনো একসাথে হাসিনি। কখনো একসাথে কাঁদিনি। একসাথে কখনো বৃষ্টিতে ভিজিনি।কখনো চুমু খাইনি তোমার ঠোঁটে। তবু তোমায় ভালোবাসি। কোনকিছু ছাড়াই ভালোবাসবো।মৃত্যু পর্যন্ত... মৃত্যুর পরেও...।

আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমি ভালো থেকো..........

                                                       (দূর্গেশ নন্দিনী) 

 ইতি,
তোমারই আমি

রবিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০১৮

প্রেমপত্র নাকি কবিতা?নাকি তৃষ্ণার্ত হৃদয়ের কিছু আবেগী কথা।

প্রেমপত্র?
রিক্ত করি সকলি দিলাম যাহারে -
তারে আবার নূতন করে প্রেম নিবেদন
কিসের প্রয়োজন?
- বারে,ভাবনা আসেনা বুঝি??
-ভাবনা,নাহ্ ,তেমন তো কোনোদিন মনে হয়নি!যা আসে তা হল কবিতা,শুনবে?
-কবিতা?উঁহু,কবিতা তো আমার ভালোলাগেনা।ভালো লাগে গান।যেখানে আছে সুরের ওঠা-নামা।সুরের ঝংকার টুকরো-টুকরো করে ভাসিয়ে নিয়ে চলে তোমার কাছে।কবিতায় সে সুর কই?আজকালকার কবিতায়,ওই যে কি বলে,অমিত্রাক্ষর না কি সব!মধুসূদন রায়ের পর থেকে তোমরা আধুনিক কবিরা যা শুরু করেছ না..ম্যাগো!!দেখলে ঘেন্না আসে!!যা হোক একটা লিখে দিলেই কবিতা হল নাকি?
-বাহ রে..কবিতা কি লোকসভা বা পার্লামেন্ট নাকি,যে এর আইন থাকবে?কবিতা হল কোনো অপ্রকাশিত মনের ভাব,বা কোনো অদম্য ইচ্ছা প্রকাশের অত্যন্ত সহজ সহজাত প্রবৃত্তি।এই যে রোজ তোমার খিদে পায়,হাসি পায়,কান্না পায়,রাগ হয়,ঘেন্না পায়,প্রেম পায়,কবিদের একটা অতিরিক্ত অনুভুতি থাকে,কবিতা।ট্রামে-বাসে-ট্রেনে,বাড়িতে-বাইরে,দিনে-রাতে,সকালে-বিকেলে,যখন হোক কবিতা পায়।ওটা উগরে না ফেলা পর্যন্ত শান্তি নেই।এই যে এখন তোমায় দেখছি,এখন কি কবিতা পাচ্ছেনা?,পাচ্ছে।শুনবে?শোনাই তবে-
হে প্রিয়তমা,
কোনো অজ্ঞাত শিল্পীর নিপুন শিল্প নমুনা তুমি,
তোমার চোখের কাজল যেন গহীন বনানী
যেখানে হারিয়ে যেতে চায় আমার জীবন-যৌবন।
একটি বিস্ত়ত চুল যেন কোনো পাহাড়ি ঝর্ণা,
তোমার পিঠ-কোমর বেয়ে আছড়ে পড়ে নিতম্বের ওপর।
সেই খোলা চুল যখন হাওয়ায় ওড়ে,
মনে হয় যেন দিগন্ত বিসতৃত ধানক্ষেত
তারা জেগে উঠছে বাতাসের উষ্ণ পরশ পেয়ে।
শীতের সকালে শিশিরে ভেজা ঘাসের মতো ভেজা চোখের পাতায়,
কখনো ভারী হয়ে ঝরে শ্রাবণের অঝোর ধারা।
এমনই এক সোনালী সকালে,
অদমের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছিল ইভ।
নিজেকে করে তুলেছিল সুন্দর থেকে সুন্দরতর।
বিশ্বের প্রথম রঙ্গমঞ্চে তারা মেতেছিল আদিম খেলায়।
শরীরের প্রতিটি ভাঁজে কত নতুন গল্প,
আমার চোখে জাগিয়ে তোলে আবিষ্কারের উল্লাস!
খোলা পায়ে হেঁটে এলে
মনে হয় কোনো র্পকথার জিয়নকাঠি!
যার স্নেহ পরশে জেগে উঠেছে এক নতুন দুনিয়া।
সময় থমকে আছে ভালোবাসার অপেক্ষায়।।
কবিতায় সুর না থাকলেও,গল্প থাকে।ছন্দ না থাকলেও আকুতি থাকে..তাকে চিনে নিতে হয়রে পাগলী!